মাটিরাঙ্গার সম্রাটের পেট ভরে সুগন্ধি আতপ চালের ভাতে
- আপডেট সময় : ১১:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে
মাটিরাঙ্গার সম্রাটের পেট ভরে সুগন্ধি আতপ চালের ভাতে
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
উঠানে মধ্যবয়সী এক লোক বড় পাতিলে করে ভাত রান্না করছেন। ধোঁয়া ওঠা সেই সুগন্ধি ভাত দেখে যে কেউ হয়তো ভাববেন, কোনো মেজবান বা বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। কিন্তু না! এই এলাহী কাণ্ড কোনো মানুষের জন্য নয়, বরং রাজকীয় এক পশুর রাজভোগের প্রস্তুতি। যার জন্য এই আয়োজন, তার নাম ‘সম্রাট’।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায়এখন আলোচনায় রয়েছে সাদা-কালো মিশ্রণে বিশাল আকৃতির এই ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটি। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সোলায়মান শেঠের মালিকানাধীন মাটিরাঙ্গা বাজারের পাশেই অবস্থিত ‘’শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড’’-এ পরম যত্ন ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় হচ্ছে এই সম্রাট। আসন্ন কোরবানি ঈদে সম্রাটকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানান খামার কর্তৃপক্ষ।
খামার মালিক পক্ষ জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে চট্টগ্রামের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে এই ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুর কিনে আনা হয়। আড়াই বছরের বেশি সময় রাজকীয় যত্নে লালন-পালন করার পর আজ সে সত্যি সত্যিই পশুর রাজ্যে সম্রাট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ১শ কেজি।
রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে তাকে। তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আছে খড়, কাঁচা ঘাস, দানাদার খাবার, চিটাগুড়, খইল, গম ও ছোলার ভুষিসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার।
সবুজ ও পুষ্টিকর ভুট্টার ঘাস পছন্দ করলেও সম্রাটের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হলো সুগন্ধি আতপ চালের গরম গরম ভাত। প্রতিদিন শুধু তার খাবারের পেছনেই খরচ হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। বিশাল দেহের অধিকারী হলেও সম্রাট স্বভাবের দিক থেকে অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও আদুরে।
সম্রাটকে সুস্থ, সবল ও পরিচ্ছন্ন রাখতে খামারে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন দক্ষ শ্রমিক। গরমের তীব্রতা থেকে স্বস্তি দিতে প্রতিদিন নিয়মিত তিন বেলা গোসল করানো হয় তাকে। পাশাপাশি খামারের খোলা পরিবেশে তার স্বাভাবিক হাঁটাচলা, খাদ্যাভ্যাস ও সার্বিক স্বাস্থ্যের প্রতিও রাখা হয় বিশেষ নজরদারি। খামারের অন্যান্য গবাদিপশুর সঙ্গেই স্বাভাবিক পরিবেশে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বেড়ে উঠছে সম্রাট।
খামার কর্তৃপক্ষ জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সম্রাটকে বিক্রির জন্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাজীর দেউড়ি বড় গরুর হাটে তোলা হবে। দানব আকৃতির ও আকর্ষণীয় রূপের এই ষাঁড়টির দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। উপযুক্ত দামে সম্রাটকে কোনো শৌখিন ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
খামারের শ্রমিক রতন বলেন, সম্রাটের যত্ন নেওয়া আমাদের প্রতিদিনের আনন্দের অংশ হয়ে গেছে। ও ভাত খেতে খুব ভালোবাসে, তাই প্রতিদিন বড় পাতিলে করে আতপ চালের ভাত রান্না করতে হয়। দিনে তিনবার গোসল করানো আর ওর থাকার জায়গা পরিষ্কার রাখতেই আমাদের তিন জনের পুরো সময় কেটে যায়। এত বড় গরু শান্তভাবে সামলানো কঠিন, কিন্তু সম্রাট আমাদের সব কথা বোঝে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুমেন চাকমা বলেন, শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড-এর বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘সম্রাট’সহ মাটিরাঙ্গার সব খামারের অন্য গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ উপকরণ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। বড় আকারে পশু উৎপাদনে প্রাকৃতিক খাদ্য ও সঠিক পরিচর্যার বিকল্প নাই। পাহাড়ি অঞ্চলের অনুকূল আবহাওয়া, সুষম খাদ্য এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণেই এর শারীরিক গঠন এত সুঠাম ও আকর্ষণীয় হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি ‘সম্রাট’কে বিক্রি করে খামারি প্রকৃত মূল্য পাবেন।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















