ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলা: ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া গেছে ৪ পুরুষের নমুনা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / ১০০৩ বার পড়া হয়েছে

তনু হত্যা মামলা: ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া গেছে ৪ পুরুষের নমুনা

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাওয়ার তথ্য জানা গেলেও নতুন করে আরো একজনের রক্ত পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট ৪ জনের নমুনা পাওয়া গিয়েছে। রবিবার (১৭ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায়।

২০১৭ সালে ৩ জনের তথ্য সামনে এলেও এখন নতুন করে আরো ১ জনের তথ্য হাতে এসেছে। আমরা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু।

পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলে মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

সন্দেহ ভাজন ৩ আসামী হলো, হাফিজুর রহমান। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ পিবিআই তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি হিসেবে আটক করে এবং আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। জাহিদ, তনুর বাবার দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় তনুর চুল কেটে ফেলা হয়েছিল। তাই জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল সত্য বেরিয়ে আসবে। শাহিনুল আলমের (জাহাঙ্গীর আলম) ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের জন্য আদালতের নির্দেশ রয়েছে।

শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মোঃ মজিবুর রহমান প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করে এই রিপোর্ট দাঁড় করিয়েছেন।

দৈনিক আস্থা/এমপি

ট্যাগস :

তনু হত্যা মামলা: ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া গেছে ৪ পুরুষের নমুনা

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

তনু হত্যা মামলা: ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া গেছে ৪ পুরুষের নমুনা

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাওয়ার তথ্য জানা গেলেও নতুন করে আরো একজনের রক্ত পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট ৪ জনের নমুনা পাওয়া গিয়েছে। রবিবার (১৭ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায়।

২০১৭ সালে ৩ জনের তথ্য সামনে এলেও এখন নতুন করে আরো ১ জনের তথ্য হাতে এসেছে। আমরা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু।

পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলে মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

সন্দেহ ভাজন ৩ আসামী হলো, হাফিজুর রহমান। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ পিবিআই তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি হিসেবে আটক করে এবং আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। জাহিদ, তনুর বাবার দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় তনুর চুল কেটে ফেলা হয়েছিল। তাই জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল সত্য বেরিয়ে আসবে। শাহিনুল আলমের (জাহাঙ্গীর আলম) ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের জন্য আদালতের নির্দেশ রয়েছে।

শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মোঃ মজিবুর রহমান প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করে এই রিপোর্ট দাঁড় করিয়েছেন।

দৈনিক আস্থা/এমপি