অদ্ভুত মামলা, নজিরবিহীন কারসাজি ত্রিমুখী চাপে পিষ্ট সাংবাদিক
- আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে
অদ্ভুত মামলা, নজিরবিহীন কারসাজি ত্রিমুখী চাপে পিষ্ট সাংবাদিক
আস্থা/ডেস্কঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার বুড়াবুড়ি সাতভিটা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান (২৪) রাষ্ট্র্রের চোখে একজন ‘জুলাই শহীদ’। এ জন্য স্বীকৃতির পাশাপাশি অনুদানের ৩০ লাখ টাকাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় পরিবারকে।
গত রবিবার দুপুর ১ টার দিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। প্রথমে আমরা প্রশাসনিক শাখায় গিয়ে আশিকের মৃত্যুসনদটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করি। এবার মুখোমুখি হতে চাই সেই চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মন্তোষ কুমার মণ্ডলের, যিনি আশিকের মৃত্যুসনদে সই দিয়েছিলেন। তিনি নিজ কক্ষে নেই। ফোন করলে জানান মিটিংয়ে আছেন।
বিকেল হয়ে যায়। কিন্তু ডা. মন্তোষের দেখা নেই। এর মধ্যে আরো কয়েকবার ফোন দেওয়া হয়। আবারও মিটিংয়ের অজুহাত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁকে খুঁজতে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকের ১০ তলার এনেসথেসিয়া, এনালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগে যাই। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন জানান, সারা দিনেও মিটিং বা কোনো কাজেই এই চিকিৎসক এই বিভাগে আসেননি। এরপর কেবিন ব্লকের সপ্তম তলায় গিয়ে সেখানেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আবার ফোন করলে এবার তিনি বলেন, ‘আমি তো বেরিয়ে পড়েছি, আপনি কাল আসুন।’
আমাদের সঙ্গে ডা. মন্তোষের লুকোচুরি খেলার অবসান ঘটে গতকাল সোমবার। কিন্তু কক্ষের বাইরে সাংবাদিক অপেক্ষায় আছেন, এই খবর জানতেই বেরিয়ে আসেন। আবারও ব্যস্ততার অজুহাতে চলে যেতে উদ্যত হন। আমরা তাঁর পিছু নিই।
তিনি আবারও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমরা একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একে একে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র, ছাড়পত্র এবং তাঁর স্বাক্ষরিত সেই মৃত্যুসনদটি মেলে ধরি। তিনি না দেখেই বলে ওঠেন, ‘সব ঠিকঠাক’।
কিন্তু আমাদের একের পর এক প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত চেপে রাখা ইতিহাস বলতে শুরু করেন ডা. মন্তোষ কুমার মণ্ডল। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলে দেন, ‘এই ছেলে (আশিক) মূলত সেপটিক শকে মারা গেছে। আমরা ওর শরীরে কোনো হেড ইনজুরি পাইনি।’
আরো বলতে থাকেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে এমআরআই করা হয়েছিল। সেখানেও মাথায় আঘাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ অর্থাৎ মেডিক্যাল বোর্ড আঘাতের প্রমাণ পায়নি, এমআরআইতেও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবু মৃত্যুসনদে ‘হেড ইনজুরির’ ইতিহাস লেখা হয়েছে।
ঠিক কী কারণে আঘাতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও ‘হেড ইনজুরি’ লেখা হয়েছিল—এ প্রশ্নের উত্তরে ডা. মন্তোষ বলেন, “তখন স্টুডেন্টরা দাবি করেছিল এটি প্রটেস্ট করতে গিয়ে হয়েছে। ওই সময়ের পরিস্থিতি কী ছিল তা তো আপনারা বোঝেন। তাদের দাবির মুখেই আমরা ‘অষষবমবফ’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এর অর্থ হলো এটা তাদের দাবি, আমাদের কনফারমেশন নয়।”
চাপের মুখে চিকিৎসা নথিতে এমন মিথ্যাচারের সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘এটা শুধু আমার সিদ্ধান্ত ছিল না। সে সময় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ ওই মেডিক্যাল বোর্ডে কে কে ছিলেন, জানতে চাইলে ডা. মন্তোষ ‘প্রায় দেড় বছর আগের ঘটনা, নাম মনে করতে পারছি না’ এসব অজুহাত তুলে আর কিছু বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় সমন্বয়কদের ভাষ্য, আশিক আন্দোলনে ছিলেন নাঃ-
সূত্র-কালের কণ্ঠ)।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















