ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবিতে মূর্তিমান আতঙ্ক আম্মার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ১০০৯ বার পড়া হয়েছে

রাবিতে মূর্তিমান আতঙ্ক আম্মার

আস্থা ডেস্কঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খতিয়ান বেশ লম্বা ও পুরোনো। তিনি ইচ্ছা করলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ‘ট্যাগ’ দিয়ে লাঞ্ছিত করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এসব ঘটলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একের পর এক বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

আম্মার এর আগে উপ-উপাচার্যকে মারধর, শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া, প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ, খোদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র, অনুদানের অর্থ নিয়ে নয়ছয়, অশালীন আচরণ, বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি। সর্বশেষ সোমবার রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের করে তিনজনকে মারধর করে আম্মার এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছেন।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য এর আগে আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছিলেন ছাত্রদলের নেতারা। মূলত তিনি বারবার এসব করে পার পেয়ে গেলেও শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সোমবারের হামলার পর আম্মারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, আম্মারের লাগামহীন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে তিনটি তদন্ত কমিটি হলেও কোনো প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখিনি।

উপ-উপাচার্যকে মারধর : সেপ্টেম্বরে রাকসুর জিএস হওয়ার এক মাস আগে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলে আম্মার ও তার অনুসারীরা তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে জুবেরী ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আম্মার। উপ-উপাচার্যের ওপর হামলা চালানো হয়। সমালোচনার মুখে আম্মার বলেছিলেন, ‘শিক্ষকরা পিতৃতুল্য, তাদের গায়ে হাত তোলা হয়নি।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ : ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আম্মারের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর এক যুগ আগে প্রতিপক্ষের হামলায় এক পা হারিয়েছিলেন মাসুদ। এরপর থেকে প্লাস্টিকের পায়ে ভর করে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। পরে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন আম্মার।

প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ : গত বছরের অক্টোবরে জিএস হওয়ার পর আম্মারের বিরুদ্ধে প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে এখতিয়ারবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিবৃতি দিয়ে আম্মারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও হুমকি দিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন।

এরপর আম্মার ডিনদের পদত্যাগপত্র হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনেই একে একে তাদের মোবাইল কল করে হুমকি দিয়েছিলেন।

ডাকসু নেত্রীর পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য : গত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছবি দিয়ে পোস্ট দিলে সেখানে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন আম্মার। যার স্ক্রিনশট বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র : এপ্রিলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেন আম্মার। যার প্রতিবাদে খুলনার কয়রা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়ু মিছিল করা হয়।

৭৬ লাখ টাকার অনুদান নিয়ে নয়ছয় : গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই ৩৬ : মুক্তির উৎসব’ কনসার্ট আয়োজনের জন্য আম্মার ৭০ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৬ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠান। একপর্যায়ে আম্মার সংবাদ সম্মেলন করে এই অর্থ ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরবেন জানালেও এখন পর্যন্ত তা করেননি।

উপাচার্যকে নিয়ে স্বীকারোক্তি : মার্চে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের বিদায়ের সময় আম্মার প্রতিক্রিয়ায় স্বীকার করেছিলেন, ‘ভিসির গেটে যত লাথি মারা হয়েছে, যতবার এই মানুষটাকে বিপদে ফেলেছি, আমি হয়তো তার জীবনের ছাত্র নামের এক আপদ হিসাবেই ছিলাম।’

প্রক্টর কার্যালয় ও গ্রন্থাগারে মারধর : সর্বশেষ সোমবার প্রক্টর কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একজনকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী আখ্যা দিয়ে হামলা করেছেন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এদিন মোট তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেছেন তারা। বিষয়টি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

কী বলছেন ছাত্রনেতারা : ছাত্র অধিকার পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, আম্মার শিবিরের তৈরি একটা ক্যারেক্টার। তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তাকে ব্যবহার করে থাকে। তিনি লাগাতার মব সৃষ্টি করে চলেছেন। এসবের বিচার হয়নি বলেই, আজকে বিষয়টি এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার সভাপতি ফুয়াদ রাতুল বলেন, জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বিরসহ শিবিরের প্রথম সারির নেতাদের তিন শিক্ষার্থীর ওপরে হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অপরাধের কঠোর শাস্তি দাবি করি।’

যা বলছে আম্মার ও শিবির:- রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমি যেসব কাজ করেছি-পোষ্য কোটা থেকে রেললাইন অবরোধ সবকিছুই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, এখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই। লাইব্রেরিতে মারধরের যে ঘটনা সেটা প্রথম ওরা আমাদের রাকসু ভবনের মারধর করে ভিডিও করেছেন। সেটার একটা প্রতিরোধ হিসাবে আমি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। ৭৬ লাখ টাকার যে বিতর্ক, সেখানে আসলে টাকা উঠেছে মাত্র আড়াই লাখ।’

আম্মারের কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আম্মারের কর্মকাণ্ডের দায় শিবির নেবে না। তার সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি শিবির হলে, শিবিরের প্যানেলেই রাকসু নির্বাচন করতেন। এই প্রশ্নের সমাধান রাকসু নির্বাচনের সময়েই হয়ে গেছে।’

প্রশাসনের বক্তব্যঃ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আব্দুল আলীম বলেন, সোমবারের ঘটনাসহ এরকম সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হবে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করেছি। যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র-যুগান্তর।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

রাবিতে মূর্তিমান আতঙ্ক আম্মার

আপডেট সময় : ০২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

রাবিতে মূর্তিমান আতঙ্ক আম্মার

আস্থা ডেস্কঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খতিয়ান বেশ লম্বা ও পুরোনো। তিনি ইচ্ছা করলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ‘ট্যাগ’ দিয়ে লাঞ্ছিত করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এসব ঘটলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একের পর এক বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

আম্মার এর আগে উপ-উপাচার্যকে মারধর, শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া, প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ, খোদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র, অনুদানের অর্থ নিয়ে নয়ছয়, অশালীন আচরণ, বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি। সর্বশেষ সোমবার রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের করে তিনজনকে মারধর করে আম্মার এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছেন।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য এর আগে আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছিলেন ছাত্রদলের নেতারা। মূলত তিনি বারবার এসব করে পার পেয়ে গেলেও শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সোমবারের হামলার পর আম্মারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, আম্মারের লাগামহীন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে তিনটি তদন্ত কমিটি হলেও কোনো প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখিনি।

উপ-উপাচার্যকে মারধর : সেপ্টেম্বরে রাকসুর জিএস হওয়ার এক মাস আগে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলে আম্মার ও তার অনুসারীরা তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে জুবেরী ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আম্মার। উপ-উপাচার্যের ওপর হামলা চালানো হয়। সমালোচনার মুখে আম্মার বলেছিলেন, ‘শিক্ষকরা পিতৃতুল্য, তাদের গায়ে হাত তোলা হয়নি।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ : ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আম্মারের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর এক যুগ আগে প্রতিপক্ষের হামলায় এক পা হারিয়েছিলেন মাসুদ। এরপর থেকে প্লাস্টিকের পায়ে ভর করে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। পরে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন আম্মার।

প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ : গত বছরের অক্টোবরে জিএস হওয়ার পর আম্মারের বিরুদ্ধে প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে এখতিয়ারবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিবৃতি দিয়ে আম্মারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও হুমকি দিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন।

এরপর আম্মার ডিনদের পদত্যাগপত্র হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনেই একে একে তাদের মোবাইল কল করে হুমকি দিয়েছিলেন।

ডাকসু নেত্রীর পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য : গত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছবি দিয়ে পোস্ট দিলে সেখানে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন আম্মার। যার স্ক্রিনশট বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র : এপ্রিলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেন আম্মার। যার প্রতিবাদে খুলনার কয়রা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়ু মিছিল করা হয়।

৭৬ লাখ টাকার অনুদান নিয়ে নয়ছয় : গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই ৩৬ : মুক্তির উৎসব’ কনসার্ট আয়োজনের জন্য আম্মার ৭০ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৬ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠান। একপর্যায়ে আম্মার সংবাদ সম্মেলন করে এই অর্থ ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরবেন জানালেও এখন পর্যন্ত তা করেননি।

উপাচার্যকে নিয়ে স্বীকারোক্তি : মার্চে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের বিদায়ের সময় আম্মার প্রতিক্রিয়ায় স্বীকার করেছিলেন, ‘ভিসির গেটে যত লাথি মারা হয়েছে, যতবার এই মানুষটাকে বিপদে ফেলেছি, আমি হয়তো তার জীবনের ছাত্র নামের এক আপদ হিসাবেই ছিলাম।’

প্রক্টর কার্যালয় ও গ্রন্থাগারে মারধর : সর্বশেষ সোমবার প্রক্টর কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একজনকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী আখ্যা দিয়ে হামলা করেছেন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এদিন মোট তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেছেন তারা। বিষয়টি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

কী বলছেন ছাত্রনেতারা : ছাত্র অধিকার পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, আম্মার শিবিরের তৈরি একটা ক্যারেক্টার। তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তাকে ব্যবহার করে থাকে। তিনি লাগাতার মব সৃষ্টি করে চলেছেন। এসবের বিচার হয়নি বলেই, আজকে বিষয়টি এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার সভাপতি ফুয়াদ রাতুল বলেন, জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বিরসহ শিবিরের প্রথম সারির নেতাদের তিন শিক্ষার্থীর ওপরে হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অপরাধের কঠোর শাস্তি দাবি করি।’

যা বলছে আম্মার ও শিবির:- রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমি যেসব কাজ করেছি-পোষ্য কোটা থেকে রেললাইন অবরোধ সবকিছুই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, এখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই। লাইব্রেরিতে মারধরের যে ঘটনা সেটা প্রথম ওরা আমাদের রাকসু ভবনের মারধর করে ভিডিও করেছেন। সেটার একটা প্রতিরোধ হিসাবে আমি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। ৭৬ লাখ টাকার যে বিতর্ক, সেখানে আসলে টাকা উঠেছে মাত্র আড়াই লাখ।’

আম্মারের কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আম্মারের কর্মকাণ্ডের দায় শিবির নেবে না। তার সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি শিবির হলে, শিবিরের প্যানেলেই রাকসু নির্বাচন করতেন। এই প্রশ্নের সমাধান রাকসু নির্বাচনের সময়েই হয়ে গেছে।’

প্রশাসনের বক্তব্যঃ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আব্দুল আলীম বলেন, সোমবারের ঘটনাসহ এরকম সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হবে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করেছি। যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র-যুগান্তর।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ