ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ময়মনসিংহ রাস্তা বন্ধ করে এনসিপির পথসভা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা Logo দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ নারী নিহত; আহত ৪০ Logo ফুলবাড়িয়ায় শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের Logo কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আটক Logo ২০১৮ সালের যুবলীগ নেতা হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি শেখ হাসিনা Logo আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া ছয় সমন্বয়ক মীর জাফর-মাসুদ কামাল Logo সুবর্ণচরে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি, থানায় জিডি Logo উত্তরের ৬ জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক Logo রাঙামাটিতে মায়ের দায়ের কোপে ছেলের মৃত্যু; বাবা-মা আটক Logo রিয়াদে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ

যাদেরকে জাকাত দেয়া যাবে না

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১
  • / ১১১১ বার পড়া হয়েছে

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাকাত। জাকাতের উদ্দেশ্যই হলো দরিদ্র দূর, কিন্তু সেটা না হয়ে জাকাত যদি অপাত্রে যায় তবে সেই জাকাতে উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে না। খিলাফতের যুগে জাকাতের মাল-সম্পদ বাইতুল মালে জমা হতো। সেখান থেকে খলীফার পক্ষ হতে জাকাতের হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই খিলাফতের ব্যবস্থা না থাকায় জাকাতদাতাগণ নিজেই জাকাতের মাল হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে থাকেন।

এ কারণে যাকাতদাতার মধ্যে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গইরুল্লাহ অর্থাৎ রিয়া বা লৌকিকতা এ ধ্বংসাত্মক বদ গুণটি জন্ম নেয়। ফলে তার জাকাত কবুল হওয়ার বিপরীতে বরবাদ হয়ে যায়। কারণ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

تعاونوا على البر والتقوى ولاتعانوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থ: তোমরা নেকী ও পরহিযগারীর মধ্যে সাহায্য করো। আর পাপ ও শত্রুতা অর্থাৎ আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব (সা.) উনাদের বিরোধিতা বা নাফরমানীর মধ্যে সাহায্য করো না। এ বিষয়ে তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (সুরা মায়িদা: আয়াত শরীফ-২)

[irp]

কিন্তু, এ ব্যাপারে জানা না থাকার কারণে দেখা যায়, কেউ কেউ এমন কাউকে জাকাত দেন বা এমন খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করে ফেলেন, যা জাকাতের শরয়ী খাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে তাদের জাকাত অনাদায়ী থেকে যায়। তাই জাকাত কারা নিতে পারবে বা কাদের দিবেন বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। জাকাত দেয়া যাবে না, এমন খাতগুলোর তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো-

১. অমুসলিম, তবে তাদের সদকা বা যেকোনো স্বেচ্ছা দান করা যাবে।
২. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের নাবালক সন্তান।
৪. বনি হাশেমের লোক।
৫. মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি–একইভাবে যত ওপরের স্তরের দিকের কাউকে জাকাত দেয়া যাবে না। অর্থাৎ যাদের মাধ্যমে দুনিয়ায় এসেছেন, তাদেরসহ উপরের স্তরের কাউকে জাকাত দেয়া যাবে না।
৬. নিজের মাধ্যমে যারা দুনিয়ায় এসেছে, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে ও তাদের সন্তানাদি, একইভাবে তাদের সন্তানদের জাকাত দেয়া যাবে না।
৭. স্ত্রী ও স্বামী একে অন্যকে জাকাত দিতে পারবে না।
৮. মসজিদ-মাদরাসা, পুল, রাস্তা, হাসপাতাল বানানোর কাজে ও মৃতের দাফনের কাজে জাকাতের টাকা দেয়া যাবে না।
৯. সরকার যদি জাকাতের মাসআলা অনুযায়ী সঠিক স্থানে জাকাতের অর্থ ব্যয় না করে, তাহলে সরকারের জাকাত ফান্ডেও জাকাত দেয়া যাবে না।
১০. জাকাত দ্বারা মসজিদ মাদরাসার স্টাফকে বেতন দেয়া যায় না।

 

ট্যাগস :

যাদেরকে জাকাত দেয়া যাবে না

আপডেট সময় : ১০:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাকাত। জাকাতের উদ্দেশ্যই হলো দরিদ্র দূর, কিন্তু সেটা না হয়ে জাকাত যদি অপাত্রে যায় তবে সেই জাকাতে উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে না। খিলাফতের যুগে জাকাতের মাল-সম্পদ বাইতুল মালে জমা হতো। সেখান থেকে খলীফার পক্ষ হতে জাকাতের হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই খিলাফতের ব্যবস্থা না থাকায় জাকাতদাতাগণ নিজেই জাকাতের মাল হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে থাকেন।

এ কারণে যাকাতদাতার মধ্যে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গইরুল্লাহ অর্থাৎ রিয়া বা লৌকিকতা এ ধ্বংসাত্মক বদ গুণটি জন্ম নেয়। ফলে তার জাকাত কবুল হওয়ার বিপরীতে বরবাদ হয়ে যায়। কারণ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

تعاونوا على البر والتقوى ولاتعانوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থ: তোমরা নেকী ও পরহিযগারীর মধ্যে সাহায্য করো। আর পাপ ও শত্রুতা অর্থাৎ আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব (সা.) উনাদের বিরোধিতা বা নাফরমানীর মধ্যে সাহায্য করো না। এ বিষয়ে তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (সুরা মায়িদা: আয়াত শরীফ-২)

[irp]

কিন্তু, এ ব্যাপারে জানা না থাকার কারণে দেখা যায়, কেউ কেউ এমন কাউকে জাকাত দেন বা এমন খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করে ফেলেন, যা জাকাতের শরয়ী খাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে তাদের জাকাত অনাদায়ী থেকে যায়। তাই জাকাত কারা নিতে পারবে বা কাদের দিবেন বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। জাকাত দেয়া যাবে না, এমন খাতগুলোর তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো-

১. অমুসলিম, তবে তাদের সদকা বা যেকোনো স্বেচ্ছা দান করা যাবে।
২. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের নাবালক সন্তান।
৪. বনি হাশেমের লোক।
৫. মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি–একইভাবে যত ওপরের স্তরের দিকের কাউকে জাকাত দেয়া যাবে না। অর্থাৎ যাদের মাধ্যমে দুনিয়ায় এসেছেন, তাদেরসহ উপরের স্তরের কাউকে জাকাত দেয়া যাবে না।
৬. নিজের মাধ্যমে যারা দুনিয়ায় এসেছে, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে ও তাদের সন্তানাদি, একইভাবে তাদের সন্তানদের জাকাত দেয়া যাবে না।
৭. স্ত্রী ও স্বামী একে অন্যকে জাকাত দিতে পারবে না।
৮. মসজিদ-মাদরাসা, পুল, রাস্তা, হাসপাতাল বানানোর কাজে ও মৃতের দাফনের কাজে জাকাতের টাকা দেয়া যাবে না।
৯. সরকার যদি জাকাতের মাসআলা অনুযায়ী সঠিক স্থানে জাকাতের অর্থ ব্যয় না করে, তাহলে সরকারের জাকাত ফান্ডেও জাকাত দেয়া যাবে না।
১০. জাকাত দ্বারা মসজিদ মাদরাসার স্টাফকে বেতন দেয়া যায় না।