ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরে বিয়ের প্রলোভনে অবৈধভাবে মেলা মেশায় তরুণীর গর্ভের সন্তানরে স্বীকৃতি চাওয়ায় গর্ভবতি তরুণীকে হত্যার দায়ে প্রমিকা
মাসুম মিয়া নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মোঃ নাজির আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পূর্বে ঢাকার আশুলিয়ায় হামিম গার্মেন্টস নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় শান্তনা খাতুনের সঙ্গে মাসুম মিয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কের ফলে শান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে তিনি মাসুমকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

বিষয়টি এড়াতে মাসুম গোপনে নিজ বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলে আসেন। পরে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই শান্তনা মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং বিয়ে না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তখন মাসুম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওইদিন দুপুরে শান্তনাকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে একটি আখ ক্ষেতে নিয়ে গর্ভবতি শান্তনাকে হত্যা করেন।

ঘটনার পর পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুম মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। পরে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড ছিল। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমরা মনে করি আসামি ন্যায়বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

রংপুরে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

রংপুরে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরে বিয়ের প্রলোভনে অবৈধভাবে মেলা মেশায় তরুণীর গর্ভের সন্তানরে স্বীকৃতি চাওয়ায় গর্ভবতি তরুণীকে হত্যার দায়ে প্রমিকা
মাসুম মিয়া নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মোঃ নাজির আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পূর্বে ঢাকার আশুলিয়ায় হামিম গার্মেন্টস নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় শান্তনা খাতুনের সঙ্গে মাসুম মিয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কের ফলে শান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে তিনি মাসুমকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

বিষয়টি এড়াতে মাসুম গোপনে নিজ বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলে আসেন। পরে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই শান্তনা মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং বিয়ে না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তখন মাসুম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওইদিন দুপুরে শান্তনাকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে একটি আখ ক্ষেতে নিয়ে গর্ভবতি শান্তনাকে হত্যা করেন।

ঘটনার পর পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুম মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। পরে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড ছিল। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমরা মনে করি আসামি ন্যায়বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ