ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-২

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০০০ বার পড়া হয়েছে

ইবিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-২

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক কর্মীর থাপ্পড় দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ২ জন আহত হয়েছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের করিডোরে থাপ্পড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহিদ জিয়াউর রহমান হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি ও দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জুহায়ের’কে কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে ছাত্রদল কর্মী ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলিনূর রহমান তাকে থাপ্পড় দেন। তবে কী কারণে তাকে থাপ্পড় দেয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

এর পর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তার কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে আসতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে। তবে সমাধানের আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেরিয়ে আসেন।

ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টাসহ শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসি। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে হলের বাইরে আমার সদস্য সচিবকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ঘটনার প্রথম সূত্রপাত ছাত্রদল কর্মী আলীনূরের হাতধরে হয়। তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এরপরও ছত্রদল দেশীয় অস্ত্রসহ স্থানীয়দের নিয়ে মেইনগেটে অবস্থান গ্রহণ করে। স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা করে আহত করে। তবে আমরা এখন অবধি ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। এখন প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেছি। আশা করি একটি সুন্দর সমাধান হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছি।

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এখানে দুই পক্ষের মাঝে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টা দুই পক্ষের সাথে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিয়েছি।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইবিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-২

আপডেট সময় : ০৯:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-২

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক কর্মীর থাপ্পড় দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ২ জন আহত হয়েছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের করিডোরে থাপ্পড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহিদ জিয়াউর রহমান হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি ও দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জুহায়ের’কে কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে ছাত্রদল কর্মী ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলিনূর রহমান তাকে থাপ্পড় দেন। তবে কী কারণে তাকে থাপ্পড় দেয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

এর পর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তার কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে আসতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে। তবে সমাধানের আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেরিয়ে আসেন।

ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টাসহ শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসি। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে হলের বাইরে আমার সদস্য সচিবকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ঘটনার প্রথম সূত্রপাত ছাত্রদল কর্মী আলীনূরের হাতধরে হয়। তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এরপরও ছত্রদল দেশীয় অস্ত্রসহ স্থানীয়দের নিয়ে মেইনগেটে অবস্থান গ্রহণ করে। স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা করে আহত করে। তবে আমরা এখন অবধি ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। এখন প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেছি। আশা করি একটি সুন্দর সমাধান হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছি।

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এখানে দুই পক্ষের মাঝে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টা দুই পক্ষের সাথে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিয়েছি।

আস্থা/এমএইচ