ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লংমার্চ গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: স্বপন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০০২ বার পড়া হয়েছে

লংমার্চ গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: স্বপন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে। জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণ–আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের যৌথ আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষকেরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে, তা জানি না। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওত পেতে বসে থাকে।’

সংসদের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, কেবল সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কেবল কৃত্রিম ও ভাসা ভাসা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ নিয়ে এলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সংকট এতই গভীর ছিল যে রাতারাতি জাদুকরি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে অপরিহার্য এসব খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এত দিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কেবল সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না। প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।

সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

লংমার্চ গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: স্বপন

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লংমার্চ গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: স্বপন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে। জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণ–আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের যৌথ আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষকেরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে, তা জানি না। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওত পেতে বসে থাকে।’

সংসদের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, কেবল সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কেবল কৃত্রিম ও ভাসা ভাসা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ নিয়ে এলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সংকট এতই গভীর ছিল যে রাতারাতি জাদুকরি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে অপরিহার্য এসব খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এত দিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কেবল সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না। প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।

সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে।

আস্থা/এমএইচ