ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চার হাজার কিঃমিঃ দূরের আঘাত আনতে সক্ষমতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২২ বার পড়া হয়েছে

চার হাজার কিঃমিঃ দূরের আঘাত আনতে সক্ষমতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভেদ করতে না পারলেও চলমান যুদ্ধে নতুন হিসাব নিকাশের জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে। অপরটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়। তবে সেটি সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, এর আগে ইরান দাবি করেছিল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত মাসে বলেছিলেন, তেহরান স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারে সীমিত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর সেই দাবি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের লেকচারার মুহানাদ সেলুম বলেন, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের ‘হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে’।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে সেলুম বলেন, ‘দিয়েগো গার্সিয়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মানে হলো ইরানের কাছে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আগে কখনও প্রকাশ পায়নি। এর আগের সব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দিক পরিবর্তন করা হয়, তবে সেগুলো লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও হিসাবই পাল্টায় না, বরং যুদ্ধে যোগ দিতে অনিচ্ছুক লন্ডন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও সমীকরণ বদলে দেয়।’

সেলুমের মতে, ইরানের কাছে হয়তো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও (আইসিবিএম) রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। ‘কারণ তারা তাদের মহাকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে এ ধরনের পরীক্ষা চালিয়েছে’-যোগ করেন এই বিশ্লেষক। (সূত্র: আল জাজিরা)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

চার হাজার কিঃমিঃ দূরের আঘাত আনতে সক্ষমতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

চার হাজার কিঃমিঃ দূরের আঘাত আনতে সক্ষমতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভেদ করতে না পারলেও চলমান যুদ্ধে নতুন হিসাব নিকাশের জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে। অপরটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়। তবে সেটি সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, এর আগে ইরান দাবি করেছিল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত মাসে বলেছিলেন, তেহরান স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারে সীমিত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর সেই দাবি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের লেকচারার মুহানাদ সেলুম বলেন, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের ‘হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে’।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে সেলুম বলেন, ‘দিয়েগো গার্সিয়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মানে হলো ইরানের কাছে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আগে কখনও প্রকাশ পায়নি। এর আগের সব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দিক পরিবর্তন করা হয়, তবে সেগুলো লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও হিসাবই পাল্টায় না, বরং যুদ্ধে যোগ দিতে অনিচ্ছুক লন্ডন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও সমীকরণ বদলে দেয়।’

সেলুমের মতে, ইরানের কাছে হয়তো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও (আইসিবিএম) রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। ‘কারণ তারা তাদের মহাকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে এ ধরনের পরীক্ষা চালিয়েছে’-যোগ করেন এই বিশ্লেষক। (সূত্র: আল জাজিরা)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ