ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীসংঘে বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলার খসড়া প্রস্তাব করছে বাহরাইন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০০৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীসংঘে বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলার খসড়া প্রস্তাব করছে বাহরাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এখন সেটির ওপর ভোটাভুটি হবে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের মতো বিষয় আছে। পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া চূড়ান্ত করে ‘ব্লু প্রিন্ট’ করা হয়েছে। যার অর্থ এটি এখন ভোটের জন্য প্রস্তুত।

অপরদিকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল পৌনে দশটার দিকে এএফপি জানিয়েছে, ভোটের জন্য নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রস্তাবটি বাহরাইন আনলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আছে। এটি পাস হলে হরমুজে জাহাজ চলাচলের বাধা বা অন্য কোনো হস্তক্ষেপকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিহতের অধিকার পাবে।

প্রস্তাবে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের অংশের সরাসরি বিরোধীতা করেছে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চীন। আপত্তি জানিয়েছে, রাশিয়া ও ফ্রান্স। ভোটদানে বিরত থাকতে পারে অনেক দেশ।

পরিষদে ভোটাভুটির আগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আক্রমণকারী এবং তাদের সমর্থকদের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘে চীনের দূত ফু কং বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি এবং নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেবে। এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়ে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে সংশোধিত খসড়ায় সরাসরি জাতিসংঘ সনদের অধ্যায়-৭ এর কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই অধ্যায়ে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সশস্ত্র সামরিক শক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা উল্লেখ আছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আল-রোয়াইয়ি সম্প্রতি বলেন, অঞ্চল এবং বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্তকারী অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পুরো বিশ্বই আজ আক্রান্ত। প্রস্তাবটি একটি সংকটময় মুহূর্তে আনা হয়েছে। এটি বেশ কয়েকবার সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সমর্থন দিচ্ছে। (সূত্র-রয়টার্স, এএফপি ও আল জাজিরা)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

জাতীসংঘে বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলার খসড়া প্রস্তাব করছে বাহরাইন

আপডেট সময় : ০২:৪৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীসংঘে বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলার খসড়া প্রস্তাব করছে বাহরাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এখন সেটির ওপর ভোটাভুটি হবে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের মতো বিষয় আছে। পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া চূড়ান্ত করে ‘ব্লু প্রিন্ট’ করা হয়েছে। যার অর্থ এটি এখন ভোটের জন্য প্রস্তুত।

অপরদিকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল পৌনে দশটার দিকে এএফপি জানিয়েছে, ভোটের জন্য নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রস্তাবটি বাহরাইন আনলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আছে। এটি পাস হলে হরমুজে জাহাজ চলাচলের বাধা বা অন্য কোনো হস্তক্ষেপকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিহতের অধিকার পাবে।

প্রস্তাবে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের অংশের সরাসরি বিরোধীতা করেছে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চীন। আপত্তি জানিয়েছে, রাশিয়া ও ফ্রান্স। ভোটদানে বিরত থাকতে পারে অনেক দেশ।

পরিষদে ভোটাভুটির আগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আক্রমণকারী এবং তাদের সমর্থকদের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘে চীনের দূত ফু কং বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি এবং নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেবে। এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়ে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে সংশোধিত খসড়ায় সরাসরি জাতিসংঘ সনদের অধ্যায়-৭ এর কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই অধ্যায়ে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সশস্ত্র সামরিক শক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা উল্লেখ আছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আল-রোয়াইয়ি সম্প্রতি বলেন, অঞ্চল এবং বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্তকারী অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পুরো বিশ্বই আজ আক্রান্ত। প্রস্তাবটি একটি সংকটময় মুহূর্তে আনা হয়েছে। এটি বেশ কয়েকবার সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সমর্থন দিচ্ছে। (সূত্র-রয়টার্স, এএফপি ও আল জাজিরা)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ