জুয়ার ১১৬ সাইট বন্ধে বিটিআরসিকে চিঠি, আটক ৮
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ১০২১ বার পড়া হয়েছে
জুয়ার ১১৬ সাইট বন্ধে বিটিআরসিকে চিঠি, আটক ৮
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
দেশের অবৈধ ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধ করতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ১ মে থেকে আজ ১৭ মে পর্যন্ত এসকল ওয়েবসাইট ও অ্যাপস শনাক্ত করা হয়।এ ছাড়া ৪টি সাইটের ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি মাসের ১ মে থেকে এখন পর্যন্ত অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট। এসব ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে তথ্য পাঠানো হয়েছে। অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৭৯টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করে সেগুলোর তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, এ সবের অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা হোসাইন সায়মনসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। সে বিদেশে অবস্থানরত জুয়ার সাইট মালিকদের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশে এজেন্ট নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। অপর ৭ জনকে ঢাকার ধানমন্ডি, নরসিংদী, ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয় গত ৬ মে। ওই দিন ৪ জনকে আটক করা হয়। তারা হলো, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার সজীব চক্রবর্তী (২৯), বাজিতপুর উপজেলার আশরাফুল ইসলাম (৪০), ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার মোঃ জসীম উদ্দীন (৩৬) এবং আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২)।
নরসিংদী এবং ঢাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয় ১৬ মে। ওই ৪ জনকে আটক করা হয়। তারা হলো, নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার তৈয়ব খান (২৬), ধানমন্ডি থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সৌমিক সাহা (২৮), ও মোঃ কামরুজ্জামান (৩৬), এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৪৭)।
সিআইডি প্রধান বলেন, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটর্ফ্রম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত। পরবর্তীতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃরা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে তারা গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো এবং এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করতো। ধারাবাহিক দুইটি সফল অভিযানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে।
জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে, মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে প্রথম অভিযানে ৭টি এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৬টি মোবাইল ফোন। এ ছাড়া ২০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ২টি এজাহারভুক্ত বিকাশ এজেন্ট সিম এবং দ্বিতীয় অভিযানে ১৮টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ২টি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আটককৃদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















