ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবাকে হত্যা করে রক্তপান! ছেলের ফাঁসির আদেশ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে

বাবাকে হত্যা করে রক্তপান! ছেলের ফাঁসির আদেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে জবাই করে হত্যা করে তার রক্ত পান করার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙ্গামাটির জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আলোময় চাকমা (৩২) ও সোহেল চাকমা (২২)। সম্পর্কে আলোময় নিহত শান্তিলাল চাকমার ভাতিজা এবং সোহেল চাকমা তার (ভিকটিম) ছেলে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে এটিই প্রথম রায়। রায়ের সময় আসামী সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামী ভিকটিমের ভাতিজা আলোময় চাকমা জামিনের পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

রাঙ্গামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ের বিষয়টি প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলোময় ও সোহেল চাকমা ভিকটিম শান্তিলাল চাকমাকে তার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি রাস্তায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে আটকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এসময় হত্যাকারি আলোময় চাকমা জবাইকৃত ভিকটিমের রক্ত পান করে বলেও জবানবন্দিতে জানায়। এরপর লাশটি কাঠের সঙ্গে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রায় নয় দিন পর কাচালং নদীর লাইল্যাগোনা এলাকায় শান্তিলালের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় শঙ্কর চাকমা সাজেক থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ২৮ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

বাবাকে হত্যা করে রক্তপান! ছেলের ফাঁসির আদেশ

আপডেট সময় : ১০:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাবাকে হত্যা করে রক্তপান! ছেলের ফাঁসির আদেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে জবাই করে হত্যা করে তার রক্ত পান করার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙ্গামাটির জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আলোময় চাকমা (৩২) ও সোহেল চাকমা (২২)। সম্পর্কে আলোময় নিহত শান্তিলাল চাকমার ভাতিজা এবং সোহেল চাকমা তার (ভিকটিম) ছেলে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে এটিই প্রথম রায়। রায়ের সময় আসামী সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামী ভিকটিমের ভাতিজা আলোময় চাকমা জামিনের পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

রাঙ্গামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ের বিষয়টি প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলোময় ও সোহেল চাকমা ভিকটিম শান্তিলাল চাকমাকে তার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি রাস্তায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে আটকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এসময় হত্যাকারি আলোময় চাকমা জবাইকৃত ভিকটিমের রক্ত পান করে বলেও জবানবন্দিতে জানায়। এরপর লাশটি কাঠের সঙ্গে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রায় নয় দিন পর কাচালং নদীর লাইল্যাগোনা এলাকায় শান্তিলালের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় শঙ্কর চাকমা সাজেক থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ২৮ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

আস্থা/এমএইচ