হাসিনাকে আমেরিকা পাঠাতে দিল্লির তোড়জোড়
- আপডেট সময় : ০২:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে
হাসিনাকে আমেরিকা পাঠাতে দিল্লির তোড়জোড়
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
“হাসিনাকে আমেরিকা পাঠাতে দিল্লির তোড়জোড়!” শিরোনামে খালেদ মহি উদ্দিন সম্পাদিত আমেরিকা থেকে প্রকাশিত ঠিকানা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৬ ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি। দেশে-বিদেশে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে ‘নববিজয় বার্ষিকী’। রাজধানী ঢাকায় জুলাই জাদুঘর-এর উদ্বোধন মুখরতা। সারাদেশে বিচিত্রসব কর্মসূচিতে সরব পরিস্থিতি। সরকারি-বেসরকারি টিভিসমূহে গান-কবিতার অনুষ্ঠানমালা। মিডিয়াসমূহে আন্দোলনকালের সচিত্র বর্ণনা। জুলাই বার্ষিকীর প্রাক্কালে অবশ্য রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের এক ডজন তান্ডব। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, হলে দখলদারিত্বের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ৫০ জন হাসপাতালে তো ১৫ জন কারাগারে। চলছে স্থানীয় অস্ত্রশস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেহাল দশা। এছাড়া দেশীয় রাজনীতিতে চলছে আন্তর্জাতিক পাখা-বাতাস। মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গোর ও শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আলোচনায়।
হাসিনার শয্যাপাশে অমিত শাহ, রাহুল গান্ধী, ডা. দেবী শেঠী:-
২০২৪-এর ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিলো। বিশেষ বিমানে পৌঁছুতে হয়েছিলো ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে ঠাঁই। বাংলাদেশের ইতিহাসের রাজকন্যার করুণ দশা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা হলেন ভারতের আশ্রিতা।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পরও এমনটি ঘটে। সপরিবারে পিতা-মাতা মুজিব- লুৎফুন্নেসা নিহত। স্বামী-পুত্র-কন্যাসহ ভারতে আশ্রয় পান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন বেঁচে যাওয়া সহোদরা শেখ রেহানা।
জুলাই ছাত্র-গণ অভ্যূত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ৫ আগস্ট। দিল্লির লোধী রোডের সুনসান বাড়িটিতে হঠাৎ সরবতা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসেছিলেন পুষ্পমাল্য নিয়ে। ক্ষমতাসীন বিজেপির সেকেন্ডম্যান তিনি। এসেছেন কংগ্রেস-প্রধান রাজনীতিক রাহুল গান্ধী। লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা তিনি। সংসদে বা রাজনীতিতে সাপে-নেউলে সম্পর্ক।
কিন্তু একজন শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতীয় নেতারা একাট্টা। পূর্বদিন পার্লামেন্ট ভবনে ছিলো বিশেষ বৈঠক। দিল্লির সরকারি-বেসরকারি শীর্ষ নেতারা যোগ দেন। তাতে বিশেষ বক্তব্য রাখেন, কূটনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশে সদ্যনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার তিনি। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এমপি, কেন্দ্রের সাবেক মন্ত্রী। হাইকমিশনার হলেও পদমর্যাদা মন্ত্রীর।
দিল্লি যাওয়ার আগে ঢাকায় কাঁপন তুলেছিলেন। দুটি রহস্যজনক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেন। হঠাৎ দিল্লিতে গিয়ে বাড়িয়েছেন উত্তেজনা। বেঙ্গালুর থেকে উড়ে এলেন হার্টসার্জন ডা. দেবী শেঠী। শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অসুখ-এর বাতাবরণ।
জামায়াতজোটে না, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে মার্কিন আগ্রহ:-
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দূত সার্জিও গোর। গুরুত্বপূর্ণ সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশের ঢাকায়। ২৫টি মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। অচিরেই ৪০ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেন শুভসংবাদ।
১২টি বিষয়ে উদ্যোক্তারা ৬ মাসের মধ্যে বিনিয়োগ করবেন। তিনি বলেন, আমেরিকা-বাংলাদেশ ট্রেড চুক্তি আছে। অতএব, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাহীন চিত্তে বিনিয়োগ করছে।
সার্জিও গোর প্রফেসর ড. ইউনূসেরও বিশেষ প্রশংসা করেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, আছে আরো নাটকীয়তা। সার্জিও গোর একইসঙ্গে দিল্লিতেও আমেরিকার রাষ্ট্রদূত। ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলের সঙ্গেও বৈঠক সারেন। তবে নৈশভোজ, যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করেন।
অতঃপর গোপন বৈঠক করেন সাবের হোসেন চৌধুরী সকাশে। যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, রাজনীতিক। প্রস্তাবিত ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে’র সম্ভাব্য সভাপতি। দেড় ঘন্টা বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো অপ্রকাশ্য।
তবে বিশেষ সূত্রমতে, বৈঠকটি রাজনৈতিক। শেখ হাসিনাবিহীন ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন বিষয়ক। জামায়াতের মৌলবাদী রাজনীতির পরিবর্তে প্রগতিশীলতার উত্থানকামী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও মৌলবাদ মুক্তির মন্ত্র দেন। যার ফলশ্রুতিতে শিবির দমনে নেমেছে বিএনপি-ছাত্রদল।
তথ্য মতে, সার্জিও গোর দেশে মার্কিনপন্থী বিরোধী দল চান। জামায়াত, এনসিপিও মার্কিনপন্থী, তবে অধিকতর ইসলামপন্থী। নেতাদের কেউ কেউ অধিকহারে ইরানপন্থীও । ‘ঠোঁটকাঁটা’ নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারী সম্প্রতি ইরান সফর করেছেন। বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন ইরানের ঘোরতর বিরোধী।
১১ দলীয় জামায়াত-এনসিপি জোট ‘ইসলাম-ফোবিয়া’ আখ্যা পাচ্ছে। ফলে, মাঠের রাজনীতিতে জোটটি কোণঠাসা হতে যাচ্ছে। সূত্রমতে, মার্কিন প্রশাসন চায় বিএনপি সরকার কঠোর হোক।
শেখ হাসিনাকে আমেরিকা পাঠাতে দিল্লির তোড়জোড়:-
ভারতের হাইকমিশানর ঢাকায় দুটি বিশেষ বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সকাশে। ভারতে বসে শেখ হাসিনা রাজনীতি করছেন কেনো? জনাব কবিরের এমন প্রশ্নে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ‘না’ বলেন। জানান যে, ভারত সরকার তা হতে দেবে না।
মার্কিন দূত সার্জিও গোরের সঙ্গেও ছিলো বিশেষ বৈঠক। দীনেশ ত্রিবেদী কথা বলেন শেখ হাসিনা প্রসঙ্গেও। ভারত সরকার এই নেত্রীকে আমেরিকা পাঠাতে চায়। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মার্কিন নাগরিক। সন্তান হিসেবে জন্মদাত্রী মাতাকে আমন্ত্রণ জানাতেই পারে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আদালতে ফাঁসির আসামী। কিন্তু ওনার অনুপস্থিতিতে রায় হয়েছে। তাই সেই রায়টি বিতর্কিত হতে পারে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে সন্তান জয় দিল্লি আসতে অপারগ । সেক্ষেত্রে ‘ট্রাভেল ডকুমেন্টে’ শেখ হাসিনা আমেরিকা যেতে পারেন। আপনি এ বিষয়ে কি সহযেগিতা করতে পারেন?
কূটনীতিক সার্জিও গোর বলেন, সময় লাগবে। এ বিষয়ে হঠাৎ কোন সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়। প্রথমত আমেরিকা হচ্ছে ‘জাতিসংঘের দেশ। সেই জাতিসংঘের রিপোর্টে তিনি একজন ঘাতক। ১৪০০ নাগরিক হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। তাই, ওনাকে আমেরিকায় নিতে প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে। জাতিসংঘ একটি ‘এমবার্গো’ দিয়ে বসতে পারে। তবে একটি পথ খোলা আছে। তিনি আর রাজনীতি করবেন না শর্তে মুচলেকা দেবেন।
দ্বিতীয়ত প্রমাণ করতে হবে, তিনি মারাত্মত অসুস্থ। তাহলে ‘মেডিকেল গ্রাউন্ডে’ মার্কিন ভিসা পেতে পারেন । বলতে হবে, কঠিন শয্যাপাশে পুত্র জয়কে চাই। মার্কিন নাগরিক হিসেবে জয়ও তেমনটি চাইবেন।
এই বৈঠকের পরই দিল্লি ছুটে যান দীনেশ ত্রিবেদী। সর্বদলীয় বিশেষ বৈঠকে বিস্তারিত জানান। ভারত সরকারও আর সময় ক্ষেপণ না করার পক্ষে। বেঙ্গালুরের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী শেঠী এখন দিল্লিতে। শেখ হাসিনার অতিপ্রিয় চিকিৎসক তিনি।
২০১৪-এর ৪ মার্চ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সঠিক চিকিৎসা দেন। এখন অর্ধ অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শয্যাপাশে। ওনার পরামর্শেই গৃহীত হবে ইতিহাসের নতুন সিদ্ধান্ত। জননেত্রী হাসিনা মার্কিন অভিবাসী হবেন, নাকি ডিসেম্বরে ঢাকা প্রত্যাবর্তনের জন্য দিন-ক্ষণ গুণবেন। সূত্র: ঠিকানা।
আস্থা/এমএইচ





















