ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাতানো খেলার বলি হলো আলিফের চোখ!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে

পাতানো খেলার বলি হলো আলিফের চোখ!

 

শিবির সাবেক সভাপতি জাহিদ ও মনিরা শারমিনের পাল্টাপাল্টি পোস্ট ঘিরে বিতর্ক। পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!-হাসান মোঃ মেহেদী।

হবিগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট পাল্টাপাল্টি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কের মধ্যে জাহিদুল তার পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি।

‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে চাইলে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটে এনসিপির নেতাকর্মীদের বহন করা গাড়িতে হামলা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ১২টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল।

তিনি তার পোস্টে লেখেন, ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে—জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন (পাবলিক সিম্প্যাথি) তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দল এনসিপি। আর ছাত্রশিবির হলো জামায়াতের ছাত্রসংগঠন। শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি জাহিদুলের ফেসবুক পোস্টের সমর্থনে রাতে জামায়াত সমর্থক বেশ কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য সংবলিত পোস্ট দিতে দেখা যায়।

যেমন—হাসান মোঃ মেহেদী নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ‘পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!’

তবে শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যের সমর্থনে যখন বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল, তখন এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেন এনসিপির নেতাকর্মী–সমর্থকেরা।

এর মধ্যে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের ফেসবুক পোস্ট সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তিনি তার পোস্টে জামায়াত থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টানেন। ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় গাজী নজরুলকে দলকে থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।

মনিরা শারমিন তার পোস্টে লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সি সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে ডিপ প্ল্যানের (গভীর পরিকল্পনা) গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক। নিজেদের ব্যর্থতা অস্বীকার করে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা এক রকম অসুখ। আরোগ্য কামনা করি। আমীন।’

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনিরা শারমিনের এই পোস্টে সাড়ে নয় হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানান। আর মন্তব্য আসে ১ হাজার ৯০০-এর বেশি।

সমালোচনার মধ্যে রাতেই নিজের পোস্ট সরিয়ে নেন শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে এনসিপি-সমর্থকদের অনেককে হাস্যরস করতে দেখা গেছে।

ট্যাগস :

পাতানো খেলার বলি হলো আলিফের চোখ!

আপডেট সময় : ০৭:৪২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

পাতানো খেলার বলি হলো আলিফের চোখ!

 

শিবির সাবেক সভাপতি জাহিদ ও মনিরা শারমিনের পাল্টাপাল্টি পোস্ট ঘিরে বিতর্ক। পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!-হাসান মোঃ মেহেদী।

হবিগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট পাল্টাপাল্টি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কের মধ্যে জাহিদুল তার পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি।

‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে চাইলে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটে এনসিপির নেতাকর্মীদের বহন করা গাড়িতে হামলা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ১২টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল।

তিনি তার পোস্টে লেখেন, ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে—জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন (পাবলিক সিম্প্যাথি) তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দল এনসিপি। আর ছাত্রশিবির হলো জামায়াতের ছাত্রসংগঠন। শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি জাহিদুলের ফেসবুক পোস্টের সমর্থনে রাতে জামায়াত সমর্থক বেশ কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য সংবলিত পোস্ট দিতে দেখা যায়।

যেমন—হাসান মোঃ মেহেদী নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ‘পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!’

তবে শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যের সমর্থনে যখন বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল, তখন এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেন এনসিপির নেতাকর্মী–সমর্থকেরা।

এর মধ্যে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের ফেসবুক পোস্ট সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তিনি তার পোস্টে জামায়াত থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টানেন। ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় গাজী নজরুলকে দলকে থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।

মনিরা শারমিন তার পোস্টে লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সি সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে ডিপ প্ল্যানের (গভীর পরিকল্পনা) গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক। নিজেদের ব্যর্থতা অস্বীকার করে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা এক রকম অসুখ। আরোগ্য কামনা করি। আমীন।’

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনিরা শারমিনের এই পোস্টে সাড়ে নয় হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানান। আর মন্তব্য আসে ১ হাজার ৯০০-এর বেশি।

সমালোচনার মধ্যে রাতেই নিজের পোস্ট সরিয়ে নেন শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে এনসিপি-সমর্থকদের অনেককে হাস্যরস করতে দেখা গেছে।