ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ১০১১ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত ঢেলে সাজানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে হাইকমান্ড। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সংগঠনটির সূত্রে প্রকাশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে দলের ভেতরের স্থবিরতা ও কোন্দল দূর করতে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের তাগিদ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১১ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি দায়িত্বশীল নেতাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।

দল গোছানোর অংশ হিসাবে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন করে গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করে নির্বাচনে অংশ নিলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে সুসংগঠিত রাখতে এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই।

গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত শনিবার রাতে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ পর্যন্ত সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় নির্বাচন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রতীক না থাকলেও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখছে বিএনপি।

গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তারেক রহমান নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করার নির্দশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দলে নতুন গতি সঞ্চার করা। তড়িঘড়ি করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করা। মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে নিয়ে আসতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু দৈনিক আস্থা’কে বলেন, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক আলোচনা সভা ছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই আমাদের প্রথম সভা হওয়ায় বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন দৈনিক আস্থা’কে বলেন, দলীয় প্রধান সংগঠনের বর্তমান অবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকার সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সামগ্রিক করণীয় কী হবে, তা নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। দলীয় প্রধান আমাদের কথা শুনেছেন এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত ঢেলে সাজানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে হাইকমান্ড। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সংগঠনটির সূত্রে প্রকাশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে দলের ভেতরের স্থবিরতা ও কোন্দল দূর করতে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের তাগিদ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১১ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি দায়িত্বশীল নেতাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।

দল গোছানোর অংশ হিসাবে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন করে গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করে নির্বাচনে অংশ নিলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে সুসংগঠিত রাখতে এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই।

গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত শনিবার রাতে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ পর্যন্ত সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় নির্বাচন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রতীক না থাকলেও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখছে বিএনপি।

গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তারেক রহমান নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করার নির্দশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দলে নতুন গতি সঞ্চার করা। তড়িঘড়ি করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করা। মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে নিয়ে আসতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু দৈনিক আস্থা’কে বলেন, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক আলোচনা সভা ছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই আমাদের প্রথম সভা হওয়ায় বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন দৈনিক আস্থা’কে বলেন, দলীয় প্রধান সংগঠনের বর্তমান অবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকার সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সামগ্রিক করণীয় কী হবে, তা নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। দলীয় প্রধান আমাদের কথা শুনেছেন এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ